বুধবার, ৮ই জুলাই ২০২৬, ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ই জুলাই ২০২৬, ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক বান্দরবানে জুমে কর্মরত নারী গুলিবিদ্ধ বান্দরবানে অনুপ্রবেশের সময় ৫৮ রোহিঙ্গাসহ আটক ৬৩ বান্দরবানে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হাজারো বৃক্ষ নিধন! মাচয়ইংয়ে মজেছে শীতের বান্দরবান বান্দরবানে কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে এবারও হচ্ছে না রাজপূণ্যাহ

জেলা

বান্দরবান জেলা পরিষদের পূর্বতন চেয়ারম্যানবৃন্দ: নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এক উজ্জ্বল ইতিহাস

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ২ই জানুয়ারি ২০১৫, ৫:৫৭ এএম

বান্দরবান জেলা পরিষদের পূর্বতন চেয়ারম্যানবৃন্দ: নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এক উজ্জ্বল ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-নদী ঘেরা অনন্য এক জনপদ বান্দরবান। ১৯৮৯ সালের ৬ মার্চ আইন পাসের মাধ্যমে “বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ” (যা বর্তমানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ নামে পরিচিত) গঠিত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের প্রশাসনিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এক ঝাঁক গুণী ব্যক্তি। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের মধ্য দিয়ে আসা এই পূর্বতন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জীবন, কর্ম এবং রাজনৈতিক প্রোফাইল নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ক্য শৈ হ্লা, চেয়ারম্যান,-বান্দরবান-পার্বত্য-জেলা-পরিষদ
ক্য শৈ হ্লা, চেয়ারম্যান,-বান্দরবান-পার্বত্য-জেলা-পরিষদ

 

Table of Contents

পূর্বতন চেয়ারম্যান পরিচিতি

জনাব ক্য শৈ হ্লা (সাবেক চেয়ারম্যান)

জনাব ক্য শৈ হ্লা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন।

  • জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়: তিনি ১৯৬৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং মৌজার আমতলী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মেঅং মাস্টার এবং মাতা ওয়াংপাইখয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

  • শিক্ষাজীবন: তিনি ডনবস্কো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮২ সালে শ্রীপুর হরনদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইমাম গাজ্জালী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

  • রাজনৈতিক কর্মজীবন: তিনি একজন প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা। তিনি বান্দরবান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদের সময়কাল:

    • প্রথম মেয়াদ: ১১ আগস্ট ২০০০ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০২ পর্যন্ত।

    • দ্বিতীয় মেয়াদ: ২৫ মে ২০০৯ থেকে ২৫ মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত।

    • তৃতীয় মেয়াদ: ২৫ মার্চ ২০১৫ থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত।

    • চতুর্থ মেয়াদ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন পর্যন্ত।

  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান: তিনি ইগল স্পোর্টিং ক্লাব, জুডো ও কারাতে ক্লাব এবং রয়েল শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, বান্দরবান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখেছেন।

  • পুরস্কার ও সম্মাননা: ২০০১ ও ২০০৯ সালে পরিবেশ উন্নয়নে অবদানের জন্য তিনি জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০১২ সালে ধরিত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক ‘মানবসেবা সম্মাননা’ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃক ‘রেড ক্রিসেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পান।

 

জনাব ক্যসাপ্রু
জনাব ক্যসাপ্রু

 

পূর্বতন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যবৃন্দ (প্রোফাইল)

১. জনাব ক্যসাপ্রু (সাবেক সদস্য)

  • ব্যক্তিগত পরিচিতি: ক্যসাপ্রু ১৯৬৭ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মংহ্লাচিং এবং মাতা মৃত হ্ননখয় মারমা। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

  • শিক্ষাজীবন: তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, রাঙ্গুনীয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৮ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

  • রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্যারিয়ার: তিনি ১৯৯১-১৯৯৫ মেয়াদে বান্দরবান জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

জনাব কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাঁ
জনাব কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাঁ

 

২. জনাব কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাঁ (সাবেক সদস্য)

  • ব্যক্তিগত পরিচিতি: কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যাঁ ১৯৭০ সালের ১ আগস্ট রোয়াংছড়ি উপজেলার বিজয় পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত বিজয় চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাঁ এবং মাতা মৃত ভানুমতি তঞ্চঙ্গ্যাঁ।

  • শিক্ষাজীবন: তিনি রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং রাঙ্গুনিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

  • রাজনৈতিক জীবন: ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (১৯৮৫-১৯৯০) সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য (২০২১) হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পাহাড়ের শিক্ষা ও কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজ করেন।

 

জনাব মো মোজাম্মেল হক বাহাদুর
জনাব মো মোজাম্মেল হক বাহাদুর

 

৩. জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক বাহাদুর (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: বান্দরবান পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ মোজাম্মেল হক বাহাদুর বান্দরবান সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

  • পরিষদে দায়িত্ব: তিনি ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর পুনরায় সরকার কর্তৃক ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

  • বিতর্ক: তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে টেন্ডার ও নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।

জনাব লক্ষীপদ দাস
জনাব লক্ষীপদ দাস

৪. জনাব লক্ষীপদ দাস (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি ও রাজনৈতিক জীবন: বান্দরবান সদরের বাজার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী লক্ষীপদ দাস তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৮ সালে তিনি বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

  • পরিষদে ভূমিকা: তিনি ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ প্রথমবার জেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন এবং ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলে পুনরায় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।

  • আইনি ঘটনা ও সাম্প্রতিক চিত্র: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় মোট ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

জনাব সিংইয়ং ম্রো
জনাব সিংইয়ং ম্রো

 

৫. জনাব সিংইয়ং ম্রো (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: বান্দরবান সদর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সিংইয়ং ম্রো। তাঁর পিতা মৃত চাঙ্গাক ম্রো। তিনি ম্রো জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন।

  • পরিষদে দায়িত্ব: তিনি ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ প্রথমবার জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। আদিবাসী ম্রো সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পাহাড়ি পাড়াগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি কাজ করেছেন।

 

জনাব ক্যনে ওয়ান চাক
জনাব ক্যনে ওয়ান চাক

 

৬. জনাব ক্যনে ওয়ান চাক (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি ও শিক্ষানুরাগ: নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের মধ্যম চাক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ক্যনে ওয়ান চাক। তাঁর পিতা মৃত থোয়াই অংগ্য চাক এবং মাতা মেছা চাক।

  • প্রশাসনিক দায়িত্ব: তিনি ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট প্রথমবার জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে তিনি পুনরায় নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।

 

মিসেস ফাতেমা পারুল
মিসেস ফাতেমা পারুল

 

৭. মিসেস ফাতেমা পারুল (সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য)

  • নারী উন্নয়ন ও সমাজসেবা: লামা উপজেলার পশ্চিম রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণকারী ফাতেমা পারুল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার (মরহুম মো. নুরুল হক) কন্যা। তিনি লামা অঞ্চলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য ‘নবধারা মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সমিতির মাধ্যমে শত শত নারী সেলাই, বুটিক ও হস্তশিল্পের ফ্রি প্রশিক্ষণ পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন।

  • স্বীকৃতি ও পরিষদ: নারী উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০১৭ সালে বান্দরবান জেলার ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালে দুই মেয়াদে জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়ে পাহাড়ের প্রান্তিক নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন।

 

মিসেস তিংতিংম্যা
মিসেস তিংতিংম্যা

 

৮. মিসেস তিংতিংম্যা (সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য)

  • পরিচিতি: মিসেস তিংতিংম্যা বান্দরবান পৌর এলাকার উজানী পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতা অংথোয়াইপ্রু। তিনি একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ নারী প্রতিনিধি।

  • ভূমিকা: তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালে দুই মেয়াদে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পাহাড়ের মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু কল্যাণ এবং পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

 

জনাব জুয়েল বম
জনাব জুয়েল বম

 

৯. জনাব জুয়েল বম (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: রুমা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেথেল পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জুয়েল বম। তাঁর পিতা মৃত থাংচুল বম। তিনি বম সম্প্রদায়ের একজন সুপরিচিত প্রতিনিধি।

  • দায়িত্ব: ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি প্রথমবার জেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালের কাউন্সিলে পুনর্নিয়োগ পেয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। রুমা অঞ্চলের দুর্গম পাড়াগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল।

 

জনাব শেখ মাহাবুবুর রহমান
জনাব শেখ মাহাবুবুর রহমান

 

১০. জনাব শেখ মাহাবুবুর রহমান (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: লামা পৌরসভা এলাকা থেকে মনোনীত হয়ে শেখ মাহাবুবুর রহমান ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর গঠিত ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি লামা অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

জনাব শৈহ্লাচিং বাশৈচিং
জনাব শৈহ্লাচিং বাশৈচিং

 

১১. জনাব শৈহ্লাচিং বাশৈচিং (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান শৈহ্লাচিং বাশৈচিং। তিনি পরিষদের অধীনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

 

জনাব সিঅং খুমী
জনাব সিঅং খুমী

 

১২. জনাব সিঅং খুমী (সাবেক সদস্য)

  • সামাজিক সম্প্রীতি ও অবদান: রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে মনোনীত সদস্য সিঅং খুমী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ‘বাংলাদেশ খুমী কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি। ২০২৩ সালে পার্বত্য বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF) সংক্রান্ত অস্থিরতা তৈরি হলে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গঠিত ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি’-র অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন।

 

জনাব সত্যহা পানজি ত্রিপুরা
জনাব সত্যহা পানজি ত্রিপুরা

 

১৩. জনাব সত্যহা পানজি ত্রিপুরা (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: বান্দরবান সদর উপজেলার ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে সত্যহা পানজি ত্রিপুরা ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের সদস্য হন। তিনি পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের আধুনিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ত্রিপুরা সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করেছেন।

 

জনাব দুংড়িমং মার্মা
জনাব দুংড়িমং মার্মা

 

১৪. জনাব দুংড়িমং মার্মা (সাবেক সদস্য)

  • পরিচিতি: ২০২০ সালের ডিসেম্বরে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দুংড়িমং মার্মা। তিনি জেলা পরিষদের বিভিন্ন আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রশাসনিক রূপরেখা (২০২৪-২০২৬)

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে বড় ধরণের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনোনীত চেয়ারম্যান জনাব ক্য শৈ হ্লা এবং তাঁর ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক গতিশীলতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন সংস্কার কমিটি ও অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হয়। বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন ও অরাজনৈতিক প্যানেলের মাধ্যমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বুদ্ধ ধাতু জাদি
বুদ্ধ ধাতু জাদি

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বতন চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দের এই দীর্ঘ তালিকাটি পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, বিভিন্ন মেয়াদে আসা এই নেতৃত্ব পাহাড়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষায় নিজেদের মতো করে অবদান রেখে গেছেন। অতীতের ভালো উদ্যোগগুলোকে ধারণ করে এবং বিভিন্ন সময় উঠে আসা প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চ্যালেঞ্জগুলোকে পেছনে ফেলে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বান্দরবানকে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত এবং সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই স্থানীয় আপামর জনগণের প্রত্যাশা।

তথ্যসূত্র: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অফিশিয়াল গেজেট, স্থানীয় সরকার বিভাগ (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়) এবং জাতীয় গণমাধ্যমসমূহ।

মন্তব্য