খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

টানা দুই দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটক এবং স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে বান্দরবানের পর্যটন শিল্পের জন্য একটি সাময়িক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বান্দরবান তার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উঁচু পাহাড়, অসংখ্য ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক মেঘে ঢাকা পাহাড়ের রূপ বা বর্ষার সতেজতার টানে ছুটে আসেন এই পাহাড়ি জনপদে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চলমান ভারী বর্ষণ কেবল এখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই ব্যাহত করেনি, বরং দুর্যোগের ঝুঁকিও বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে জারি করা জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই আবহাওয়াজনিত এই নাজুক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে পর্যটক ও জনসাধারণের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ে জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট যেমন নীলাচল, নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, বগালেক, রাইখিয়াং ঝরনা এবং অন্যান্য পাহাড়ি ট্রেইলে ভ্রমণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু পর্যটন কেন্দ্রই নয়, পাহাড়ি ঝরনা, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং জরুরি বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, টানা বর্ষণের প্রভাবে জেলার থানচি ও আলীকদম উপজেলার নিম্নাঞ্চল পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। থানচির তিন্দু এলাকায় সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সোমবার একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটলেও, সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আলীকদমের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসন দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ভারী বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার (৫ জুলাই) থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বান্দরবান চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই সতর্কবার্তা এখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি। এই সাময়িক বন্ধ ঘোষণা মূলত অপ্রত্যাশিত বিপদ এড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জানমাল রক্ষায় সহায়ক হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য