খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেড়াতে আসা পর্যটক এবং স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে সাতটায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে গত ৬ জুলাইও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। নতুন এই নির্দেশনাটি আগের বিজ্ঞপ্তিরই একটি বর্ধিত রূপ।
সরকারি বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে বান্দরবান সদরসহ রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। লাগাতার এই বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাস্তাগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট-বড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের সড়ক ও নদীপথগুলোতে যাতায়াত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মূল পর্যটনকেন্দ্রগুলোর জন্যই প্রযোজ্য নয়। বান্দরবানের আওতাধীন সব আকর্ষণীয় ঝর্ণা, অ্যাডভেঞ্চার ট্রেইল, নদীপথ, পাহাড়ের দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে পর্যটক, গাইড ও ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
বর্ষাকালে বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি, বগালেক কিংবা তাজিংডংয়ের মতো স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে পাহাড়ের এই রূপ বর্ষায় যতটা সুন্দর, ঠিক ততটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি আকস্মিক বেড়ে যাওয়া এবং ঝর্ণার তীব্র স্রোতের কারণে অতীতেও বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সকল ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল মালিক এবং পর্যটকদের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং রাস্তাঘাট নিরাপদ ঘোষিত হওয়ার পর পুনরায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। আপদকালীন এই সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য