খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জানুয়ারি ২০১৫, ১০:১৪ এএম

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা মূলত তার সুউচ্চ পাহাড়, গিরিখাত ও দুর্গম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এই বিশেষ ভূপ্রকৃতির কারণে সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সবসময়ই বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বান্দরবানের স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জেলা সদর থেকে শুরু করে অতি দুর্গম সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবার নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে।
নিচে বান্দরবান জেলার সরকারি হাসপাতাল, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং উপজেলাভিত্তিক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক গাইড তুলে ধরা হলো।
বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে একটি কেন্দ্রীয় আধুনিক সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূলত সাধারণ আউটডোর চিকিৎসা, ইনডোর জরুরি সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য (Maternal and Child Health), বিনামূল্যে টিকাদান (EPI) কর্মসূচি এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সেবা দেওয়া হয়।
| ক্রমিক নং | হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নাম | অবস্থান (উপজেলা/ইউনিয়ন) |
| ০১ | বান্দরবান সদর হাসপাতাল (কেন্দ্রীয় রেফারেল হাসপাতাল) | বান্দরবান সদর |
| ০২ | নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | নাইক্ষ্যংছড়ি |
| ০৩ | লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | লামা |
| ০৪ | আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | আলীকদম |
| ০৫ | থানছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | থানছি |
| ০৬ | রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | রুমা |
| ০৭ | রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | রোয়াংছড়ি |
| ০৮ | বাইশারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র | বাইশারী, নাইক্ষ্যংছড়ি |
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বান্দরবানের সাধারণ মানুষের দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জরুরি প্যাথলজিক্যাল টেস্টের সুবিধা দিতে বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি ও মেডিকেল সেন্টার গড়ে উঠেছে। নিচে উপজেলাভিত্তিক এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
সদর শহরে উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার রয়েছে:
মাউন্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টার
বান্দরবান প্যাথলজী সেন্টার
মুক্তা মেডিকো প্যাথলজী এন্ড এক্স-রে
জি. এম প্যাথলজী সেন্টার
বালাঘাটা প্যাথলজী সেন্টার
বাসন্তী প্যাথলজী সেন্টার
হেলথ কেয়ার প্যাথলজী সেন্টার
বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বেশ বড়:
মেমোরী প্যাথলজী সেন্টার ও পাহাড়ীকা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার
মেডি ল্যাব ও মডার্ণ প্যাথলজী সেন্টার
লামা প্যাথলজী ও নিরুপণ প্যাথলজী সেন্টার
ফেমাস ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও মাদার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার
নিউ ল্যাব হাউজ ও আজিজনগর প্যাথলজী
তালুকদার প্যাথলজী
জনসেবা প্যাথলজী সেন্টার
জনকল্যাণ প্যাথলজী
হিল প্যাথলজী সেন্টার
রুবী প্যাথলজী ও বার আউলিয়া প্যাথলজী
মোঃ শাহজাহান সিরাজ প্যাথলজী
দুর্গম এই দুই উপজেলায় স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠেছে প্রাথমিক প্যাথলজি সেবা:
রুমা: পাতুন হিলি লুসাই প্যাথলজী, লন জোয়াল ফিরোজ প্যাথলজী।
রোয়াংছড়ি: উথোয়াই মারমা প্যাথলজী।
বান্দরবানের স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে এখনও কিছু বড় সংকট রয়ে গেছে:
১. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকট: প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতে গাইনি, কার্ডিওলজি বা সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদগুলো প্রায়ই শূন্য থাকে।
২. দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা: থানচি বা রুমার অনেক প্রত্যন্ত পাড়া (যেমন- রেমাক্রী বা বগালেক এলাকা) থেকে একজন মুমূর্ষু রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে সড়কপথে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।
৩. আধুনিক সরঞ্জামের অভাব: জটিল রোগ নির্ণয়ের জন্য আইসিইউ (ICU), সিটি স্ক্যান বা উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির জন্য এখনও স্থানীয়দের চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্গমতা আর প্রাকৃতিক বাধা সত্ত্বেও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রয়াস স্থানীয় মানুষের গড় আয়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে এই পাহাড়ি জনপদের স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি আধুনিক করতে হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের আবাসন নিশ্চিত করা, টেলিমেডিসিন সেবার পরিধি বাড়ানো এবং জরুরি প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা বিশেষ পাহাড়ি মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
মন্তব্য