খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দেশের ১১টি জেলায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সেবাদানে মাঠে নেমেছে। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যেখানে বাহিনীটি জানায় যে তারা দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।**
ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অবিরাম ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলো ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতেও পানি বেড়ে গিয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিজিবি সূত্র অনুযায়ী, এই ১১টি জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাহিনীর সদস্যরা বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গম স্থানে পৌঁছে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বান্দরবানের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সেখানে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ মোট ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও, অসুস্থ ও আঘাতপ্রাপ্তদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে; ইতিমধ্যে ৪৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতেও বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে উপড়ে পড়া গাছপালা ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে একটি স্টিলের সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে ওই অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করেছে।
বিজিবি তার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে যে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই বাহিনীর পবিত্র দায়িত্বের অংশ। দেশের এই ক্রান্তিকালে তারা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। এই দুর্যোগে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, তবে বিজিবির এই ব্যাপকভিত্তিক মোতায়েন ও কার্যক্রম দুর্গত মানুষের জন্য এক বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য