রবিবার, ২৩ই আগস্ট ২০২৬, ৮শে ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ই আগস্ট ২০২৬, ৮শে ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক পাহাড়ে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির চাপ: দুর্ভোগে হাজারো পরিবার বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১১ জেলায় বিজিবি: ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভারী বর্ষণে ঝুঁকি: ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা প্রবল বর্ষণে অচল বান্দরবান: পর্যটন বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভূমিধসের শঙ্কা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে আটকে ৬৯ পর্যটক, নাফাখুম থেকে উদ্ধার হলেও ফিরতে পারেননি সদরে চার ছক্কার ধামাকা: বান্দরবানে পর্দা উঠল পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বান্দরবানের ‘অপহৃত’ শ্রমিকরা ছাড়া পেয়েছে বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বান্দরবানে খুমি পাড়ায় চাথাচানা পই উৎসব বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের দুই সদস্য আটক

লামা

লামা উপজেলা পরিচিতি

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ই এপ্রিল ২০০০, ৭:১৪ পিএম

লামা উপজেলা পরিচিতি

পার্বত্য বান্দরবান জেলার প্রবেশদ্বার এবং এক অনন্য প্রাকৃতিক উপত্যকার নাম লামা। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সমতল ভূমির সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটি পাহাড়ী সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। পাহাড়ে ঘেরা শান্ত পরিবেশ, আঁকাবাঁকা মাতামুহুরী নদীর রূপালী জলধারা আর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শত বছরের সহাবস্থান লামা উপজেলাকে বাংলাদেশের অন্যতম এক সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত করেছে।

Table of Contents

ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা ও আয়তন

লামা উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৬৭১.৮৪ বর্গ কিলোমিটার। ভৌগোলিক মানচিত্রে এটি ২১°৩৬´ থেকে ২১°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০৪´ থেকে ৯২°২৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থান করছে।

এর সীমানা বিন্যাস এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:

  • উত্তরে: রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলা এবং বান্দরবান সদর উপজেলা
  • দক্ষিণে: নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা
  • পূর্বে: রুমা ও আলীকদম উপজেলা
  • পশ্চিমে: কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা

অঞ্চলের জীবনরেখা: মাতামুহুরী নদী

লামা উপজেলার বুক চিরে প্রবহমান প্রধান নদী হলো মাতামুহুরী। এই নদীটি কেবল এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বাড়িয়ে দেয়নি, বরং স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান ধমনী হিসেবে কাজ করছে। বর্ষায় এই নদীর রূপ যেমন যৌবনা হয়ে ওঠে, শীতের দিনে তেমনই শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ ধারণ করে।

প্রশাসনিক কাঠামো ও ইউনিয়ন বিন্যাস

লামা থানা মূলত ব্রিটিশ আমলে ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এবং স্থানীয় মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৮৫ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে ১টি পৌরসভা এবং ৭টি প্রধান ইউনিয়ন নিয়ে এই প্রশাসনিক কাঠামো গঠিত।

ইউনিয়নগুলো হলো:

১. লামা সদর ইউনিয়ন

২. ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন

৩. আজিজনগর ইউনিয়ন

৪. সরই ইউনিয়ন

৫. গজালিয়া ইউনিয়ন

৬. রূপসীপাড়া ইউনিয়ন

৭. ফাইতং ইউনিয়ন

পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলো আবার নিজস্ব মৌজা এবং অসংখ্য ছায়াঢাকা পাহাড়ী গ্রামে বিভক্ত, যা স্থানীয় ভাষায় ‘পাড়া’ নামে পরিচিত।

জনসংখ্যা, বিচিত্র ধর্ম ও সামাজিক মেলবন্ধন

সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লামা উপজেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১,১০,০০০ জনের কাছাকাছি। এই জনপদে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান।

ধর্মীয় সম্প্রীতির চিত্র

লামা অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করেন। এখানকার ধর্মীয় জনসংখ্যার বিন্যাস নিম্নরূপ:

  • মুসলিম ধর্মাবলম্বী: প্রায় ৬৫%
  • বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী: প্রায় ২৫%
  • হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী: বাকি ১০%

সাংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য

লামা উপজেলার আসল সৌন্দর্য এখানকার সামাজিক গঠনে। এখানে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মারমা, ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা এবং চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও উৎসবকে টিকিয়ে রেখেছেন। এই বহুজাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান পুরো অঞ্চলে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তৈরি করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার আলো

লামা উপজেলায় শিক্ষার হার সমতলের চেয়ে কিছুটা কম হলেও দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এখানকার গড় সাক্ষরতার হার প্রায় ৩৪%। দুর্গম পাহাড়ী পাড়াগুলোতে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ

উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে:

  • সরকারি ও বেসরকারি কলেজ: ২টি (উল্লেখযোগ্য: লামা সরকারি কলেজ)
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ১৫টির বেশি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়: প্রায় ৮৫টি
  • মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন: বেশ কয়েকটি

এছাড়াও দুর্গম পাড়ার শিশুদের জন্য বিভিন্ন খ্রিষ্টান মিশন ও বৌদ্ধ বিহারের উদ্যোগে আবাসিক হোস্টেল বা পাড়া কেন্দ্র পরিচালিত হয়, যা ঝরে পড়া রোধে বড় ভূমিকা রাখছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা

ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে প্রত্যন্ত পাড়ার মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পাওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও লামা সদরে স্বাস্থ্যসেবার সুব্যবস্থা রয়েছে।

চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রসমূহ
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১টি (৫০ শয্যা বিশিষ্ট)
  • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র: ৪টি
  • কমিউনিটি ক্লিনিক: বেশ কয়েকটি
  • পশু চিকিৎসা কেন্দ্র: ১টি
স্যানিটেশন ও পানীয় জলের বাস্তবতা

উপজেলার সমতল ও আধা-সমতল এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা বেশ উন্নত হলেও উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়ী পাড়াগুলোতে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রায় ৩৫% পরিবার স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। অন্যদিকে, সুপেয় পানীয় জলের জন্য উপজেলার প্রায় ৬০% মানুষ নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। তবে দুর্গম এলাকার মানুষ এখনও ঝরনা, ছড়া বা মাতামুহুরী নদীর ঝিরির পানি সংগ্রহ করে জীবনধারণ করেন।

প্রাকৃতিক সম্পদ, ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ ও অর্থনীতি

লামা উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। সমতল ভূমিতে আধুনিক চাষাবাদ হলেও পাহাড়ের ঢালে এখনও আদিম ও ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের রাজত্ব।

জুম চাষ ও প্রধান ফসল

পাহাড়ী জনগোষ্ঠী জুম পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান, ভুট্টা, মারফা (পাহাড়ী শসা), তিল, আদা ও হলুদ চাষ করেন। এছাড়া সমতল এলাকায় প্রচুর পরিমাণে আমন ও বোরো ধান এবং শীতকালীন শাকসবজি উৎপাদিত হয়।

ফলের স্বর্গরাজ্য ও তামাক চাষ

লামার মাটি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর। এখানকার উৎপাদিত প্রধান ফলসমূহ হলো:

  • মিষ্টি কলা ও আনারস
  • রসালো কাঁঠাল ও পেঁপে
  • আম, কাঁঠাল ও লিচু

তবে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তামাক চাষের একটি বড় প্রবণতা রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর দুই কূলে শীতকালে ব্যাপক তামাক চাষ হতে দেখা যায়।

বনজ ও কুটিরশিল্প

লামার বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ বাঁশ, বেত ও মূল্যবান কাঠ (যেমন সেগুন, গামারি) সংগৃহীত হয়। কুটিরশিল্পের মধ্যে আদিবাসীদের কোমর তাঁতে বোনা কাপড়, বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো

বান্দরবানের অন্যান্য দুর্গম উপজেলার তুলনায় লামার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশ থেকে লামা সদরে প্রবেশের পিচঢালা সড়কটি বেশ চওড়া ও সুগম।

  • প্রধান সড়ক যোগাযোগ: চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়ক এই অঞ্চলের প্রধান লাইফলাইন।
  • গণপরিবহন: জিপ গাড়ি (চাঁদের গাড়ি), লোকাল বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল এখানকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
  • নৌপথ: বর্ষাকালে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নৌকায় করে দুর্গম রূপসীপাড়া বা গজালিয়ার ভেতরের অঞ্চলে মালামাল ও মানুষ পরিবহন করা হয়।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিন্যাস

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যবাহী এই উপজেলায় সব ধর্মের মানুষের জন্যই পর্যাপ্ত উপাসনালয় রয়েছে:

  • মসজিদ ও ইদগাহ: ৯০টির বেশি
  • বৌদ্ধ বিহার (ক্যাঙ) ও প্যাগোডা: ৩৫টির বেশি
  • হিন্দু মন্দির ও আশ্রম: ১০টি
  • গীর্জা (চার্চ): ১৫টির মতো

পর্যটনের সম্ভাবনা ও দর্শনীয় স্থান

লামা উপজেলাটি তার প্রাকৃতিক নৈসর্গিকতার কারণে দিন দিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানকার পাহাড় ও নদীর মিতালি দেখার মতো।

উল্লেখযোগ্য আকর্ষণসমূহ:

  • মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স: পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি থেকে চারপাশের উপত্যকা এবং দূরের সমতল ভূমির এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। মেঘের খেলা দেখার জন্য এটি দারুণ এক জায়গা।
  • কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন (আলোকায়ন): সরই ইউনিয়নে অবস্থিত এই ধ্যান ও মানবসেবামূলক কেন্দ্রটির সুশৃঙ্খল পরিবেশ, বাগান এবং স্থাপত্যশৈলী দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
  • মাতামুহুরী নদীর কূল: নদীপথে নৌকা ভ্রমণ প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়।
  • আদিবাসী পাড়া ও মাচাং ঘর: মারমা ও ম্রো পাড়াগুলোর সরল জীবনযাত্রা এবং অনন্য সংস্কৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও টেকসই জীবনমান

লামা উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং উর্বর ভূমি একে এক সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে এর টেকসই উন্নয়নের জন্য কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন:

১. পরিবেশবান্ধব কৃষি: তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মাটি ও নদীকে রক্ষা করতে কৃষকদের ফল ও মসলা চাষে উৎসাহিত করা।

২. ইকো-ট্যুরিজম ও হোম-স্টে: মিরিঞ্জা ও কোয়ান্টাম সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটানো।

৩. দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রসার: রূপসীপাড়া বা গজালিয়ার মতো দূরবর্তী ইউনিয়নগুলোর মানুষের কাছে মোবাইল ক্লিনিক এবং শিক্ষার আলো পৌঁছানো।

প্রকৃতির সবুজ আঁচল আর মাতামুহুরীর কলতানে মুখরিত লামা উপজেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের এক শান্ত, স্নিগ্ধ এবং সম্ভাবনাময় জনপদ, যা তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে সমৃদ্ধির পথে।

মন্তব্য