খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:১৯ এএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জেলা বান্দরবান। উঁচু-নিচু পাহাড়ের সারি, মেঘের আনাগোনা আর পাহাড়ি ঝরনা দেখতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পর্যটকদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় আবাসন ব্যবস্থা। সাধারণ বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে পাহাড়ের চূড়ায় বিলাসবহুল ইকো-রিসোর্ট—সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই এখন এই পার্বত্য জেলায় বিদ্যমান।

বান্দরবানের ভূপ্রকৃতি এবং পর্যটকদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এখানকার আবাসন ব্যবস্থাকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
সরকারি সার্কিট হাউজ ও ডাক বাংলো: মূলত সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষ অতিথিদের জন্য নির্ধারিত, তবে সাধারণ মানুষও আগে থেকে অনুমতি সাপেক্ষে থাকার সুযোগ পান।
পর্যটন মোটেল: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত নির্ভরযোগ্য আবাসন।
বেসরকারি হোটেল ও গেস্ট হাউজ: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সব বয়সী ও সব বাজেটের মানুষের উপযোগী হোটেল।
পাহাড়ী ইকো-রিসোর্ট: শহর থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি, পাহাড় ও নদী দেখা যায় এমন নান্দনিক রিসোর্ট।
যারা সরকারি নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে থাকতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য দুটি প্রধান মাধ্যম রয়েছে:
সার্কিট হাউজ: জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। শহরের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই হাউজে থাকতে হলে স্থানীয় জেলা প্রশাসন থেকে পূর্বানুমতি বা বুকিং নিশ্চিত করতে হয়।
পর্যটন মোটেল: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত এই মোটেলটি মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। এর অনলাইন ও অফলাইন বুকিং সুবিধা রয়েছে এবং মধ্যম বাজেটে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বান্দরবান শহরের ভেতরে এবং বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে সব ধরনের বাজেটের জন্য প্রচুর বেসরকারি হোটেল রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সেগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
হোটেল হলিডে ইন ও হোটেল প্লাজা: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চমৎকার রুম সার্ভিসের জন্য সুপরিচিত।
মাস্টার গেস্ট হাউজ ও হোটেল গ্রীনল্যান্ড: পরিবার নিয়ে থাকার জন্য নিরাপদ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত।
হোটেল হিল কুইন ও হোটেল পূরবী: কাপল বা ছোট পরিবারের জন্য আদর্শ ও বাজেট ফ্রেন্ডলি।
হোটেল প্রু আবাসিক: মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা ও সংস্কৃতি অনুভব করার জন্য একটি চমৎকার আবাসন।
হোটেল ফোর স্টার ও হোটেল হিলবার্ড: গরম পানি ও ওয়াইফাই সুবিধাসহ মানসম্মত রুমের ব্যবস্থা রয়েছে।
হোটেল অতিথি, হোটেল বিলকিছ ও বান্দরবান গেস্ট হাউজ: সাধারণ পর্যটক ও গ্রুপ ট্যুরের জন্য স্ট্যান্ডার্ড মানের হোটেল।
যারা ব্যাকপ্যাকিং করেন বা একদম কম খরচে শুধু রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য শহরের ভেতরে বেশ কিছু বোর্ডিং ও সাধারণ হোটেল রয়েছে। যেমন: হোটেল রাজু, হাবিব, পূর্বাণী, পর্বত এবং জামাল, সরওয়ার, হিরো, কামাল, শাওন ও আল-امین বোর্ডিং।
বান্দরবান ভ্রমণের আসল আমেজ পাওয়া যায় শহরের কোলাহল থেকে দূরে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত রিসোর্টগুলোতে।
হিল সাইট রিসোর্ট (মিলনছড়ি): এটি বান্দরবানের অন্যতম বিখ্যাত ও নান্দনিক রিসোর্ট। সাঙ্গু নদী এবং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টের কটেজগুলো থেকে ভোরের মেঘ দেখার অভিজ্ঞতা এক অপার্থিব অনুভূতি দেয়।
পাহাড়িকা গেস্ট হাউজ: ছিমছাম ও সবুজ প্রকৃতির মাঝে শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়।
বান্দরবান শহরের মূল কেন্দ্র, বাস স্টেশন এবং মিলনছড়ি এলাকার কিছু জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য হোটেল ও রিসোর্টের নাম এবং যোগাযোগ নম্বর নিচে দেওয়া হলো। আপনার বুকিংয়ের সুবিধার্থে এগুলোকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:
জরুরি টিপস:
১. পিক সিজনে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) যাওয়ার আগে অবশ্যই ফোনে রুমের প্রাপ্যতা এবং ভাড়ার হার নিশ্চিত করে অ্যাডভান্স বুকিং করে নেবেন।
২. অনেক সময় পাহাড়ি এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কিছু নম্বর সাময়িকভাবে বন্ধ পেতে পারেন, সেক্ষেত্রে অল্টারনেটিভ নম্বরে চেষ্টা করার অনুরোধ রইল।
গত কয়েক দশকে বান্দরবানের পর্যটন খাতের সাথে আবাসন ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন ঘটেছে:
অগ্রিম বুকিং: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বান্দরবানের পিক-সিজন বা ভ্রমণের মূল মরসুম। এই সময়ে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অবস্থান নির্বাচন: আপনি যদি যাতায়াত ও রেস্টুরেন্টের সুবিধা সহজে পেতে চান, তবে শহরের ভেতরের হোটেল বেছে নিন। আর যদি নিরিবিলি প্রকৃতি ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তবে মিলনছড়ি বা শৈলপ্রপাত এলাকার রিসোর্ট বুক করুন।
অনুমতি ও পরিচয়পত্র: পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তার স্বার্থে সব হোটেলেই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হয়, তাই ভ্রমণের সময় এগুলো সাথে রাখুন।
বান্দরবান জেলার আবাসন ব্যবস্থা দিন দিন আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠছে। সব ধরনের বাজেট ও রুচির মানুষের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকায় এটি এখন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পর্যটনবান্ধব গন্তব্য। আপনার পরবর্তী বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় আবাসনটি আগেভাগে নিশ্চিত করুন এবং নিশ্চিন্তে উপভোগ করুন পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য।
মন্তব্য