খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৫২ এএম

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৪,৪৭৯.০২ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত নৈসর্গিক পার্বত্য জেলা বান্দরবান। অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনে গড়া এই জেলাটি যেমন স্বকীয়, তেমনি এখানকার গণমাধ্যম খাতও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং বহুভাষিক সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বান্দরবানের গণমাধ্যমগুলো স্থানীয় মানুষের অধিকার, সমস্যা, পর্যটন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে দেশ ও বিদেশের পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে এক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে।
বান্দরবান থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও সাময়িকীগুলো মূলত স্থানীয় সংস্কৃতি, পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও যে পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলো এই অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে আসছে, সেগুলোর একটি সুবিন্যস্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| পত্রিকা/ম্যাগাজিনের নাম | ধরণ | সম্পাদক/প্রকাশক |
| দৈনিক সচিত্র মৈত্রী | দৈনিক পত্রিকা | অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি |
| দৈনিক নতুন বাংলাদেশ | দৈনিক পত্রিকা | আফাজ উল্লাহ খান |
| পাক্ষিক সাঙ্গু | পাক্ষিক পত্রিকা | সম্পাদক: আইরিন বম প্রকাশক: কবির হোসেন ছিদ্দিকী |
| মাসিক চিম্বুক | মাসিক ম্যাগাজিন | মোঃ বাদশা মিয়া |
| মাসিক নীলাচল | মাসিক ম্যাগাজিন | মোঃ ইসলাম |
| বান্দরবান জিলাইভ | ফিচার/নিউজ ম্যাগাজিন | সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর |
এই গণমাধ্যমগুলো কেবল সংবাদই পরিবেশন করে না, বরং বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী লোকগাথা, উৎসব, জুম চাষের সংকট এবং উদীয়মান পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
সমতলের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন বান্দরবানের গণমাধ্যমেও দৃশ্যমান। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং স্মার্টফোনের প্রসারের সাথে সাথে এখানে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ও পাঠকপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে এই অঞ্চলে ‘পাহাড়বার্তা’ নামে একটি পুর্ণাঙ্গ অনলাইন নিউজ পোর্টাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে পোর্টালটি সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের সংবাদ দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্বজুড়ে থাকা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও বেশ কিছু ফেসবুক ভিত্তিক স্থানীয় নিউজ পেজ এবং ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন প্রত্যন্ত পাড়ার মানুষের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখের গল্প তুলে ধরছেন।
বান্দরবানের গণমাধ্যমগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা সমতলের চেয়ে অনেক বেশি। এগুলো প্রধানত তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে:
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ: মারমা, ম্রো, বম বা ত্রিপুরার মতো নৃগোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে স্থানীয় ম্যাগাজিনগুলো বিশেষ পাতা ও ফিচার প্রকাশ করে।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রত্যন্ত পাহাড়ী অঞ্চলের কুসংস্কার দূরীকরণ, জুম চাষের পরিবেশগত সচেতনতা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই পত্রিকাগুলো জনমত তৈরিতে কাজ করে।
পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: মেঘলা, নীলাচল বা নীলগিরির মতো পর্যটন স্পটগুলোর ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রকাশের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করতে এগুলো দিকপাল হিসেবে কাজ করছে।

সবশেষে বলা যায়, বান্দরবান জেলার গণমাধ্যম খাত এই অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো উন্নয়নের এক নীরব কারিগর। আধুনিক প্রযুক্তি ও তরুণ সাংবাদিকদের হাত ধরে এখানকার স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালগুলো পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পেলে বান্দরবানের গণমাধ্যম আগামী দিনে আরও বেশি সমৃদ্ধ, শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে উঠবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
মন্তব্য