খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৫৩ এএম

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের এক অনন্য ও নৈসর্গিক জেলা বান্দরবান। উঁচু-নিচু পাহাড়ের সারি, ছায়াঢাকা অরণ্য আর আঁকাবাঁকা নদীবেষ্টিত এই জেলাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নৃগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্যের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। প্রশাসনিকভাবে বান্দরবান জেলাটি বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য জেলা।

ভৌগোলিক মানচিত্রে বান্দরবান জেলাটি ২১°১১´ থেকে ২২°২২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০৪´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অবস্থান করছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলার দূরত্ব প্রায় ৩২৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই জেলার চারপাশের সীমানা অত্যন্ত কৌশলগত:
উত্তরে: রাঙ্গামাটি জেলা।
দক্ষিণে ও পশ্চিমে: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান)।
পূর্বে: রাঙ্গামাটি জেলা এবং মিয়ানমারের চিন রাজ্য।
পশ্চিমে: বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা এবং চট্টগ্রাম জেলা।
বিশাল আয়তনের এই পাহাড়ি জনপদে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সুসংগঠিত করতে একটি মজবুত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো বান্দরবান জেলাটি ১টি সংসদীয় আসন (বান্দরবান ৩০০ নং আসন), ২টি পৌরসভা, ৭টি থানা, ৯৬টি মৌজা এবং ১,৪৮২টি গ্রাম বা পাহাড়ী পাড়া নিয়ে গঠিত।
এই জেলার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হলো এর ৭টি উপজেলা এবং তাদের অধীনে থাকা সর্বমোট ৩৩টি ইউনিয়ন পরিষদ।
নিচে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার নাম এবং তাদের আঞ্চলিক ও পর্যটনগত গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
এটি জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বিখ্যাত বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণমন্দির), মেঘলা এবং নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো এই উপজেলাতেই অবস্থিত।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে এটি বেশ সমৃদ্ধ। মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি কৃষি, ফল চাষ এবং রাবার বাগানের জন্য সুপরিচিত।
সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর মনোরম আবহ ও পাহাড়ী ট্রেইলের জন্য এটি বিখ্যাত। মারায়ং তং পাহাড় এবং আলীকদমের রহস্যময় আলীর গুহা দেখতে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন।
মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত এই উপজেলাটি চা ও রাবার চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার উপবন পর্যটন লেক স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ট্র্যাকারদের প্রিয় গন্তব্য এই রোয়াংছড়ি। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও গভীর জলধারা ‘দেবতাকুম’ এবং বিখ্যাত ‘তিনাপ সাইতার’ জলপ্রপাত এই উপজেলার অরণ্যেই লুকিয়ে আছে।
বাংলাদেশের পাহাড়ী পর্যটনের মূল কেন্দ্র বলা যায় রুমা উপজেলাকে। দেশের এক সময়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে সৃষ্ট অলৌকিক হ্রদ ‘বগালেক’ এই উপজেলাতেই অবস্থিত।
বান্দরবান তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্গম এবং সুন্দর উপজেলাগুলোর একটি। নাফাকুম, অমিয়াকুম এবং তিন্দু-রেমাক্রীর মতো অপার্থিব সুন্দর জলপ্রপাত ও পাথর বিছানো নদীপথ এই উপজেলার মূল আকর্ষণ।

প্রশাসনিক এই ৭টি উপজেলা কেবল বান্দরবান জেলার মানচিত্রের অংশ নয়, বরং এগুলো এই অঞ্চলের বহুজাতিগত সংস্কৃতির সম্প্রীতি, ঐতিহ্যবাহী রাজন্য প্রথা এবং টেকসই উন্নয়নের এক চমৎকার প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি উপজেলার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও পাহাড়ি জীবনধারা বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যকে করেছে আরও বেশি বর্ণাঢ্য।
মন্তব্য