খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৫৩ এএম

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এক অনন্য গিরি জনপদ বান্দরবান। দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এই জেলাটি প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পাহাড়ের ঢালে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে আধুনিক কৃষি ও ফল চাষের এক বিশাল বিপ্লব ঘটে গেছে। এই নিবন্ধে আমরা বান্দরবান জেলার প্রধান কৃষি ফসল, মূল্যবান বনজ সম্পদ, নদীভিত্তিক অর্থনীতি এবং স্থানীয় কৃষি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিস্তারিত তুলে ধরব।
বান্দরবানের মাটির উর্বরতা এবং আবহাওয়া ফল ও বিশেষ জাতের শস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার উৎপাদিত প্রধান প্রধান কৃষিজ পণ্যের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
বিখ্যাত বিন্নি চালের সমাহার: বান্দরবানের পাহাড়ী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো প্রচুর পরিমাণে বিন্নি চালের উৎপাদন। এখানকার জুম ক্ষেতে মূলত তিন রঙের বিন্নি চাল উৎপাদিত হয়—সাদা, লাল এবং কালো। এই চালগুলো অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা স্থানীয় নৃগোষ্ঠী ও পর্যটকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।
রসালো ফল চাষ: ফল উৎপাদনে বান্দরবান দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অঞ্চল। এখানকার পাহাড়ের ঢালে উৎপাদিত আনারস, কলা, পেঁপে, কমলা এবং লেবু অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। এখানকার রসালো আনারস ও পাহাড়ি চম্পা কলার চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে।
জুমের মিষ্টি ভুট্টা: সমতলের ভুট্টার চেয়ে পাহাড়ের জুমের ভুট্টার স্বাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বেশ মিষ্টি। পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে খাওয়ার জন্য এই ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
অন্যান্য ফসল: এছাড়া পাহাড়ি আলু, আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা জাতীয় ফসল চাষে বান্দরবানের কৃষকরা প্রতি বছর ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল (Unclassed State Forests), যা দেশের মূল্যবান কাঠ ও প্রাকৃতিক সম্পদের এক বিশাল ভাণ্ডার।
মূল্যবান কাঠ ও বাঁশ: এখানকার বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে এবং পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে সেগুন, গামারী, গর্জন, শিল কড়ই ও তৈলসুর এর মতো অত্যন্ত মূল্যবান কাঠ উৎপাদিত হয়। এছাড়া ঘরবাড়ি নির্মাণ ও কাগজ কলের কাঁচামাল হিসেবে এখানকার বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর অবদান: পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এই বিশাল বনজ ও কৃষিজ সম্পদ সমতলে বা বাজারে নিয়ে আসার প্রধান মাধ্যম হলো জেলার বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী। এই দুটি নদী ব্যবহার করে অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে কাঠ, বাঁশ এবং কৃষিপণ্য বিভিন্ন দূরবর্তী বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিবহন ও বিপণন করা সম্ভব হচ্ছে।
বান্দরবানের ছবির মতো সুন্দর সবুজ-শ্যামলিমা গিরিশ্রেণী, দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গসমূহ এবং ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষে থাকা আদিবাসী সংস্কৃতির বৈচিত্র্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। এর ফলে জেলার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ধীরে ধীরে পর্যটন-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, যা স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
তবে এই পর্যটন বিকাশের একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত সমাগম এবং প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য, পাহাড়ি ঝিরি ও ঝরনার পানি এবং সার্বিক প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক দূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। টেকসই কৃষির স্বার্থেই এই দূষণ রোধ করা এখন সময়ের দাবি।
বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল বীজ এবং রোগবালাই দমনে সরাসরি পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। যেকোনো প্রয়োজনে বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের সুবিধার্থে বর্তমান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম ও পদবি | অফিস শাখা | ই-মেইল | মোবাইল ও ফোন নম্বর | বিসিএস ব্যাচ |
| ০১ | এম, এম, শাহ্ নেওয়াজ
উপপরিচালক | প্রধান কার্যালয় | ddbandarban.gov@gmail.com | ০১৫৫৬-৮৫৯৮৭৮
০৩৬১-৬২৪৯০ (অফিস) | ২৮তম |
| ০২ | নুচিং মারমা
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা | মাঠ পর্যায় | nueching.prue@gmail.com | ০১৫৫৬-৭০৮৯৯০
০২৩৩৩-৩০২০১৪ (অফিস) | – |
| ০৩ | মিশুক চাকমা
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা | মাঠ পর্যায় | chakmamishuk50@gmail.com | ০১৫৫৬-৭৭৯৫৯৯
০২৩৩৩-৩০২০১৪ (অফিস) | – |
অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য: আপনি যদি বান্দরবানের পাহাড়ি কৃষি পদ্ধতি (জুম চাষ) সরাসরি দেখতে চান, তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভ্রমণ করা সবচেয়ে উত্তম সময়। এই সময়ে পাহাড়ের ঢালগুলো সবুজ জুমের ফসলে ভরে থাকে।
মন্তব্য